A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / আন্তর্জাতিক / চেংগিস খান মৃত্যুবরণের পর তাঁকে কোথায় কবর দেয়া হয়

চেংগিস খান মৃত্যুবরণের পর তাঁকে কোথায় কবর দেয়া হয়

অন্তর্মঙ্গোলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের এরডস শহরের ইচিনহোলুও জেলার তৃণভূমিতে তিনটি মঙ্গলীয় তাঁবুর মতো বিশাল প্রাসাদ দেখা যায়,তা হল বিশ্ব বিখ্যাত চেংগিস খানের সমাধি। প্রতি বছরে অনেক দেশী বিদেশী পর্যটক এই স্থান পরিদর্শন করতে আসেন। মঙ্গোলীয় ভাষায় এরডসের অর্থ হল বহু প্রাসাদ,ইচিনহোলুওর অর্থ হল ‘বৃদ্ধ পবিত্র রাজার কবরস্থান’। চেংগিস খান মঙ্গোলীয় জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা এবং চীনা জাতির মহান সমর বিশারদ ও রাজনীতিবিদ। ১৩শ শতাব্দীতে তিনি মঙ্গোলীয় জাতির বিভিন্ন উপজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং একটি বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করছিলেন। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি চীনের ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বহু প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। চেংগিস খান চীন ও পশ্চিমা সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের আদান-প্রদানে সহায়তা করার জন্য বিশাল অবদান রেখেছেন। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা আপনাদের নিয়ে চেংগিস খানের সমাধি পরিদর্শন করতে যাবো।

চেংগিস খান মৃত্যুবরণের পর তাঁকে কোথায় কবর দেয়া হয়,তা একটি রহস্যময় ব্যাপার। তবে অনেক আগে ইচিনহোলুও অঞ্চলে চেংগিস খানকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল। তাহলে কেন এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে? এ সম্পর্কে একটি মজার কাহিনী আছে।

৭০০ বছরের আগে যখন চেংগিস খানের ৬০ বছর বয়স,তিনি সেনাবাহিনী নিয়ে তাঁর জীবনের শেষ অভিযানে যাত্রা করেন। সে অভিযানে তিনি সুন্দর নদী ও নিবিড় তৃণভূমি শোভিত এরডস অঞ্চলের কানদের তৃণভূমি অতিক্রম করেন। স্থানীয় অঞ্চলের অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখার পর তিনি বলেন, ‘এখানকার দৃশ্য খুবই সুন্দর, আমার মৃত্যুর পর আমাকে এখানে কবর দেবে।’

১২২৭ সালে চেংগিস খান পশ্চিমা দেশে অভিযানের পথে মৃত্যুবরণ করেন। লোকজন তাঁর ব্যবহৃত কাপড় চোপড় ও তরবারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সাতটি বাক্সের মধ্যে রেখে দেয় এবং তাঁর জন্মস্থানে পাঠিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে গরুর গাড়ি একটি তৃণভূমিতে আকস্মিকভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং কোনো ভাবেই গরুগুলো গাড়ি টানতে পারে না। সেই সময় এ সাতটি বাক্সের কাছে হঠাত্ সুন্দর বর্ণের আলো দেখা যায় এবং তরবারিও অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন লোকজন চেংগিস খানের কথা স্মরণ করে এবং সেই তৃণভূমি ‘বুদ্ধিমান ও পবিত্র রাজার সমাধিতে’ পরিণত হয়।

‘চেংগিস খানের সমাধির প্রশাসনিক কমিটির উপ-পরিচালক না ছু কে আমাদেরকে জানিয়েছেন, ১৯৩৯ সালে জাপানী আগ্রাসকরা সমাধিস্থানটি ধ্বংস করতে চেয়েছিল এবং সমাধিস্থানের মূল্যবান সম্পদ চুরি করার চেষ্টা করে, তখন চেংগিস খানের কবর বাধ্য হয়ে কানসু প্রদেশের সিংলোং পাহাড়ে স্থানান্তর করা হয়,তারপর তা ছিংহাই প্রদেশের তায়ের মন্দিরে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৫৪ সালে মঙ্গোলীয় জাতির লোকদের অনুরোধে তা পুনরায় এরডস তৃণভূমিতে ফিরে এসেছে। চেংগিস খানকে মঙ্গোলীয় জাতির মহান বীর হিসেবে স্মরণ করার জন্য চীন সরকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তাঁর জন্য নতুনভাবে সমাধিস্থান মেরামত করেছে এবং নিয়মিতভাবে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।’

SHOP NOW

About admin

Check Also

নিষেধাজ্ঞা জারি মার্কিন নাগরিকদের উপর

সন্ত্রাসী হুমকি ও সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণে সর্তকতা জারি করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!